জামালপুরে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যালয়ে পুনরায় পতাকা উত্তোলন
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়, যা দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, সেখানে ১৮ মাস পর পুনরায় জাতীয় পতাকা ও সাইনবোর্ড উত্তোলন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ
বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ কাদিরের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপটে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কার্যালয়টিতে সাইনবোর্ড ও পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, ইউনিয়ন তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ইউনিয়ন সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী।
এই সময়ে নেতা-কর্মীরা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তারা দ্রুত কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সরে যান। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কার্যালয়ের পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এই কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই সময় থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সেখানে নিষিদ্ধ ছিল। এবারের পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি এই দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এই বিষয়ে মো. সাজ্জাদ কাদিরের কাছ থেকে মন্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংগঠনের সক্রিয়তা পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত হিসেবে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই নতুন অধ্যায় কীভাবে বিকশিত হয়, তা এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, কেউ কেউ একে দলীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্ন তুলেছেন।
