মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রতিশ্রুতি: গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ে অপব্যয় ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাধিক গুরুত্ব
মন্ত্রী সুমনের প্রতিশ্রুতি: গৃহায়নে অপব্যয় ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ

গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ে অপব্যয় রোধ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাধিক গুরুত্ব: মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, তার মন্ত্রণালয়ে যেন কোনো অপব্যয় না হয়, সেদিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, তার সর্বাধিক চেষ্টা থাকবে যেন এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) উপজেলায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

প্লট বরাদ্দে প্রশ্নবিদ্ধ অতীত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকার প্রধান ও কর্মকর্তারা এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের অনেক কাজ কমিয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।" প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন লিডার অফ দ্য হাউজ নির্বাচিত হয়েছেন, সেদিনই তিনি ঘোষণা করেছেন যে তারা কোনো সরকারি প্লট বা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। মন্ত্রী সুমন এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, "এটা আমার জন্য সুবিধা হয়েছে—অন্তত এ কাজের তদবির থেকে আমি মুক্ত থাকব।"

মেগা প্রজেক্ট পুনরায় শুরু ও মূল্যায়নের পরিকল্পনা

নির্মাণকাজ বন্ধ ও স্থবির হয়ে থাকা গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের মেগা প্রজেক্টগুলো পুনরায় শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "আমরা মাত্র দুই দিন হয়েছে সরকারে বসেছি।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কোন কোন প্রজেক্টগুলো বেশি দরকারি এবং কোনগুলো দরকারি নয়, তা মূল্যায়ন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা চেষ্টা করব যেন কোনো অপব্যয় না হয়।"

বরুড়ায় আনন্দের উত্সব ও মন্ত্রীর রাজনৈতিক পটভূমি

বরুড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বরুড়া উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীরা নতুন মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় বরুড়া থানা। প্রায় ৭৮ বছর পর জাকারিয়া তাহের সুমন প্রথম কোনো মন্ত্রী হলেন এ আসন থেকে। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের অন্যতম শিল্পপতি হিসেবে তার মন্ত্রী হওয়ায় বরুড়া উপজেলা জুড়ে আনন্দের উত্সব চলছে। এবারের সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন, যা তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ বহন করে।