জামায়াতের আমিরের প্রশ্ন: চাঁদা জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেন মন্ত্রী?
জামায়াতের আমিরের প্রশ্ন: চাঁদা জাতীয়করণের ঘোষণা?

জামায়াতের আমিরের কঠোর প্রশ্ন: চাঁদা জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেন মন্ত্রী?

সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াত-ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো কি না।

ফেসবুক পোস্টে সরব হলেন জামায়াত নেতা

শুক্রবার রাত আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তার এই বক্তব্য পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে করা চাঁদাবাজি নিয়ে মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিতবাহী।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রবিউল আলম বলেছিলেন, 'সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।'

মন্ত্রীর বক্তব্যে গণমাধ্যমে সমালোচনা

চাঁদার এই নতুন সংজ্ঞায়ন করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন রবিউল আলম। আজ জামায়াতের আমিরও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সরব হলেন। রবিউল বা বিএনপির কারও নাম উল্লেখ না করে জামায়াতের আমির ফেসবুকে লিখেছেন, 'তাহলে কি নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো? তাহলে কীভাবে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে? ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?'

শফিকুর রহমান আরও লেখেন, 'প্রিয় জনগণ, চাঁদার কালো থাবা থেকে বাঁচতে হলে লড়তে হবে। এ লড়াইয়ে আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি, ইনশা আল্লাহ।' তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ পেয়েছে।

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বিতর্ক

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নামে এই চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। মন্ত্রীর বক্তব্যে এই চাঁদাকে 'অলিখিত বিধি' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা বিরোধী দল ও সমালোচকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

জামায়াতের আমিরের এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের শুরুতে এমন বিতর্কিত বক্তব্য প্রশাসনিক সতর্কতার অভাব নির্দেশ করতে পারে।