লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদমন্ত্রীর কর্মসূচি: চাঁদাবাজির সুযোগ নেই, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রকল্প
লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদমন্ত্রী: চাঁদাবাজি বন্ধ, জলাবদ্ধতা প্রকল্প

লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদমন্ত্রীর কর্মসূচি: চাঁদাবাজির সুযোগ নেই, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রকল্প

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সারা দেশে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে লক্ষ্মীপুরে তো এই সমস্যা নেই-ই। তাঁর এই বক্তব্য এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

তিন দিনের সফর ও কর্মসূচি

পানিসম্পদমন্ত্রী তিন দিনের সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে এসেছেন। আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার তিনি লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করবেন এবং দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। আজ সকালে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যাপক প্রকল্প

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, 'দেশব্যাপী খাল খনন করা হবে। ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে সর্বোচ্চ সেটা করা হবে। খুব শিগগির খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। সেটার মধ্যে লক্ষ্মীপুরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।'

লক্ষ্মীপুরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ইতিমধ্যে বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে:

  • ভুলুয়া নদী খনন
  • রহমতখালী খান পুনঃখনন

মন্ত্রী বলেন, 'আমরা যদি এ প্রকল্পটি হাতে নিতে পারি লক্ষ্মীপুরে যে জলাবদ্ধতা-ব্যাধি দীর্ঘদিনের মানুষের যেই কষ্টের জায়গা, সেখান থেকে আমরা মুক্ত হতে সক্ষম হব। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করার ইচ্ছা আছে, আমরা সেদিকেই নজর দিচ্ছি।'

নদী ভাঙন সমস্যার সমাধান

মেঘনা নদী ও রহমতখালী খাল পাড়ে ভাঙন সমস্যা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গবেষণা ভিত্তিক পদক্ষেপ এলাকার স্থায়ী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সভা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা যেন সুন্দরভাবে থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন। রমজান মাসে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন আমরা কীভাবে অব্যাহত রাখব, সেটা যেকোনো ডিপার্টমেন্টে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।'

তিনি আরও যোগ করেন, সদর হাসপাতালে মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা নিয়ে বিশেষ নজর রাখছি। এই বক্তব্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

শুভেচ্ছা ও সমর্থন

সার্কিট হাউসে শহীদ উদ্দীন চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাবুদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। এই সমর্থন মন্ত্রীর কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে এই সফর ও ঘোষণাগুলো এলাকাবাসীর জন্য আশার বার্তা বয়ে এনেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।