নাগরিক ভোগান্তি কমাতে ইশরাক হোসেনের ১০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা
ইশরাকের ১০ দিনের কর্মসূচি: নাগরিক ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ

নাগরিক ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে ইশরাক হোসেনের ১০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন ভোগান্তি লাঘব করতে একটি ব্যাপক ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই প্রাধান্যভিত্তিক রোডম্যাপ তুলে ধরেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো জনদুর্ভোগ হ্রাস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

প্রথম ১০ দিনের তাৎক্ষণিক কার্যক্রম

এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে:

  1. গ্যাস সংকট ব্যবস্থাপনা: রমজান মাসে বাড়িঘরে গ্যাস সংযোগ দ্রুত সচল করতে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীদের মাঠে নামানো হবে। সংযোগজনিত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে এবং গ্যাস লোড বৃদ্ধির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
  2. আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা: ঢাকা-৬ আসনের থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। নিরাপদ পাড়া-মহল্লা নিশ্চিত করতে টহল বাড়ানো ও পুলিশ ফাঁড়ি সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে। ছিনতাই, চুরি ও রাস্তার অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  3. মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান: মাদক স্পটগুলো বন্ধ করা হবে এবং মাদকের উৎসস্থল নিষ্ক্রিয় করতে মাদক রুট বন্ধ করা হবে। মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে, এমনকি বিদেশে অবস্থানরত মাদক ব্যবসায়ীদের ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
  4. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় বাজারে গোপন ও কঠোর নজরদারি চালু থাকবে। মুনাফাখোরদের পণ্য মজুত সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে ধারাবাহিক তল্লাশি চালানো হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ডেকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হবে এবং আকস্মিক বাজার পরিদর্শন ও ডিএসসিসি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
  5. যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে কার্যকর সমাধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা রোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ইন্টারসেকশন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে এবং এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে। অবৈধভাবে পার্ক করা যানবাহন সড়ক থেকে অপসারণ করা হবে এবং দখলকৃত ফুটপাত উন্মুক্ত করা হবে।

ঈদের আগে ও পরবর্তী ধারাবাহিক কার্যক্রম

প্রাধান্য স্তর–২ হিসেবে ঈদের আগে ও পরে আরও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে:

  • ওয়ার্ডভিত্তিক সড়ক ও সড়কপৃষ্ঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
  • অবৈধ স্থাপনার মাধ্যমে সড়ক দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
  • খোলা নর্দমা ও ড্রেনের সমস্যা শনাক্ত করে স্ল্যাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা করে ব্লক অপসারণ করা হবে।
  • সড়কের পাশে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা রোধ করে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং ডিএসসিসির বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে।
  • বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংযোগ দেওয়া হবে এবং স্ট্রিট লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করে নষ্ট লাইট পরিবর্তন করা হবে।
  • নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার, ঝাড়ু দেওয়া এবং ধুলোপ্রবণ এলাকায় পানি ছিটানোর কার্যক্রম গবেষণাভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কাঠামো

এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে থানা পুলিশ, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংস্থা, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাজার মনিটরিং ম্যাজিস্ট্রেট, ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইশরাক হোসেনের এই উদ্যোগ নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে রমজান ও ঈদের প্রস্তুতির সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।