ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলেন
দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন

দবিরুল ইসলামের জামিনে মুক্তি: দেড় বছর কারাভোগের পর ঢাকায় চিকিৎসা

প্রায় দেড় বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান, যা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

জামিন আবেদন মঞ্জুর ও মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া

ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত বৃহস্পতিবারই দবিরুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করলে তার কারামুক্তির আইনি পথ প্রশস্ত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই মামলায় তার ছেলে এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলেও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন এখনো দিনাজপুর কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।

গুরুতর অসুস্থতা ও চিকিৎসার অভিযোগ

দবিরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এতটাই নাজুক যে তার একা হাঁটাচলা করার শক্তিটুকুও নেই। কারামুক্তির পরপরই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার সুচিকিৎসার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে তিনি দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য ঘটনা

এই একই কারাগারে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দবিরুল ইসলামের অসুস্থতার খবরটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রবীণ এই নেতার মুক্তিকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে তার অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানা গেছে। সরকার পরিবর্তনের পর ঠাকুরগাঁও ও সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান অবস্থা ও পরিবারের আবেদন

বর্তমানে দবিরুল ইসলামকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যা ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।