পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতিমন্ত্রী হলেন ফারজানা শারমীন
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ফারজানা শারমীন। ১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর পিতা ফজলুর রহমান (পটল) একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। প্রায় ৩২ বছর ৬ মাস পর একই পদে আসীন হয়েছেন তাঁর কন্যা ফারজানা শারমীন।
নাটোর-১ আসনে প্রথমবারের সংসদ সদস্য
ফারজানা শারমীন এবার নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি মন্ত্রিসভায় ডাক পান। গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আজ বুধবার তিনি সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবস সম্পন্ন করেছেন।
পিতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
প্রয়াত ফজলুর রহমান নাটোর-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সামাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি কিংবদন্তি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, ফারজানা শারমীনের নির্বাচনী জয়ের পেছনে তাঁর বাবার জনপ্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কঠিন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
তবে ফারজানা শারমীনের জন্য নির্বাচনে জয় পাওয়া সহজ ছিল না। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর বড় ভাই ইয়াসির আরশাদ ও বিএনপির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। শেষ মুহূর্তে ভাই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতা তাইফুল ইসলামের সঙ্গে তীব্র লড়াই করে তিনি ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এলাকায় পুতুল নামে পরিচিত
ফারজানা শারমীন এলাকার মানুষ কাছে পুতুল নামেই পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলতেন, ‘আমি পটলের বেটি, আমাকে ভোট দিয়ে বাবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন।’ ভোটাররা তাঁর এই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন, যা তাঁকে সংসদ সদস্য ও পরে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিয়েছে। এলাকার মেয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অনুসারী নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে আছেন।
শিক্ষা ও পেশাগত জীবন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা শারমীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি পেশায় হাইকোর্টের একজন আইনজীবী। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। ২০১৬ সালে বাবা ফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্য
৪১ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্যের মা কামরুন নাহার ঢাকার একটি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন। এর আগে তিনিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
সম্পদের বিবরণ
ফারজানা শারমীনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, হলফনামার ১০-ক দফায় আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তবে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি হিসাবে বনানীতে ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ৫ তলা ও বনশ্রীতে ১ দশমিক ৬২৯ কাঠার ওপর নির্মিত একটি ভবনের তথ্য উল্লেখ করেছেন, যার মূল্য উল্লেখ করেননি। গৃহনির্মাণ ঋণ হিসেবে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৭ টাকা দায়ের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে ওই ঋণ গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর স্বামী এইচ এম বাররু সানির পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করলেও তাঁর সম্পদ ও আয়ের কোনো বিবরণ উল্লেখ করেননি।
