রাজবাড়ী, বগুড়া ও কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টানানো
রাজবাড়ী, বগুড়া, কুড়িগ্রামে আ.লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন

রাজবাড়ী, বগুড়া ও কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টানানো

রাজবাড়ী, বগুড়া ও কুড়িগ্রাম জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার টানানো হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এবং কুড়িগ্রামে ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানো হয়েছে। এছাড়া, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানারও ঝুলছে, যাতে জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানার ছবি রয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার কোনও ছবি না থাকলেও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিসহ নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানো আছে।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া জানান, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকেও শুধু জাতীয় পতাকা টানানো ছিল। বুধবার সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোরের দিকে কোনও একসময় ব্যানারটি লাগানো হয়েছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই কার্যালয়ে প্রকাশ্যে কোনও সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গতকাল হঠাৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং উদ্বোধনী ব্যানার টানানো দেখা যায়। আজ আরেকটি ব্যানার এবং কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো হয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, নতুন করে ব্যানার ও ছবি টানানোর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমাদের জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নিচ্ছেন।’

কুড়িগ্রামে ব্যানার টানানো ও অপসারণ

কুড়িগ্রাম জেলা শহরের শাপলা চত্বর এলাকায়, বিএনপি সরকার গঠনের একদিনের মাথায় ভেঙে ফেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের টিনের প্রাচীরে জাতীয় পতাকা ও দলীয় ব্যানার টানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কয়েক ঘণ্টার মাথায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাকর্মীরা তা অপসারণ করে এবং টিনের প্রাচীর ভেঙে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ভোরে ছাত্রলীগ পরিচয়ে সাত-আট জন তরুণ ব্যানার টানিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ সহ দলীয় স্লোগান দিতে থাকেন এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যানার ও পতাকা অপসারণ করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা হয়তো শুনেছিলেন প্রত্যেকটি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে খোলা হবে। আজ তারই অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার ও পতাকা টানানো হয়েছিল। ইতিপূর্বে আমরা এটি ভেঙে দিয়েছিলাম। কুড়িগ্রাম তো দূরের কথা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনও কার্যালয় থাকবে না। আমরা এখানে গণশৌচাগার নির্মাণ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তারা এত বড় ঘোষণা শোনার পরও কোনও ভূমিকা পালন করেনি। এসপিকে আমরা বিষয়টি বারবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনও ভূমিকা পালন করেননি।’

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী বলেন, ‘পুলিশের অগোচরে ঘটনাটি ঘটেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় যারা চালুর চেষ্টা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বগুড়ার সোনাতলায় পতাকা উত্তোলন

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার সকালে কে বা কারা এই পতাকা উত্তোলন করেছে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা শুনেছি, তবে দেখিনি। কারা উত্তোলন করেছে, তার খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৮ মাসে ওই দলীয় কার্যালয়ে কেউ যায়নি। বুধবার সকালে সেখানে হঠাৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালেও ওই কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, এরপর সন্ধ্যায় পতাকাটি সরিয়ে নেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সোনাতলা উপজেলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর থেকে এটি বন্ধ ছিল।

উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের দুজন নেতা জানান, তারা আশা করছেন বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বাধা দেবে না। এই বিশ্বাস থেকে তারা দলীয় কার্যালয়ে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন ও সন্ধ্যায় নামিয়ে ফেলছেন। পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক হলে তারা সরকারকে সহযোগিতার পাশাপাশি সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক রাজনীতি শুরু করবেন।