বরগুনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও হাসিনার ছবি টাঙানোর ঘটনা
বরগুনায় নিষিদ্ধ আ. লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও ছবি টাঙানো

বরগুনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও হাসিনার ছবি টাঙানো

বরগুনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের শেরেবাংলা সড়কে অবস্থিত কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

ভিডিওতে ধরা পড়া ঘটনা

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের নেতা ফাহাদ হাসান তানিম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় পরিত্যক্ত কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিও টাঙানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা সকাল ৮টার দিকে দোকান খুলে পতাকাটি দেখতে পান।

ছাত্রলীগ নেতার বক্তব্য

ভিডিওতে ফাহাদ হাসান তানিমকে বলতে শোনা যায়, "প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের প্রতিটি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস খোলা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা জেলা ছাত্রলীগ এই পার্টি অফিসটি খোলার কাজে অংশগ্রহণ করেছি। আপনার দেখতে পাচ্ছেন আমাদের পার্টি অফিসটি ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আমরা এই ধ্বংসস্তূপের ছাই থেকে আগুনের ফিনিক্স পাখি হয়ে আবারও নতুন করে জন্মাবো।"

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বরগুনা জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, "রাষ্ট্র ঘোষিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন কার্যালয়ে ছবি ও পতাকা উত্তোলন করছে। এর আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটার পরে আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন শক্ত অবস্থা দেখিনি। আমরা অবাক হয়েছি নিষিদ্ধ থাকা একটি দলের হঠাৎ করেই এমন কার্যক্রম এবং তার কোন ব্যবস্থা না নেয়ায়। আমরা তাদের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র নিন্দা জানাই।"

পুলিশের তদন্ত

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, "ছাত্রলীগের কিছু সদস্যরা অতি গোপনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছবি টাঙানো ও পতাকা উত্তোলন করেছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যতদূর জেনেছি এটি খুব সকালে করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।