বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের পথ ধরে বিএনপিতে প্রথমবার সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হলেন শামা ওবায়েদ
বিএনপিতে প্রথম সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপিতে প্রথমবার সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হলেন শামা ওবায়েদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। এই সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন, যেখানে মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)।

শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক পথচলা ও পারিবারিক পটভূমি

শামা ওবায়েদের জন্ম ১৯৭২ সালের ১৪ মে। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম ওবায়দুর রহমান গত শতকের আশির দশকে বিএনপির মহাসচিব ছিলেন এবং জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মা শাহেদা ওবায়েদ শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। শামা ওবায়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পর্যায়ের। তিনি রাজধানীর বনানীতে বসবাস করেন, তবে তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে অবস্থিত।

২০০৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর শামা ওবায়েদ রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি পরাজিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) পদে রয়েছেন এবং দলের চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচনী সাফল্য ও বিরোধের ইতিহাস

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে (সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা) প্রার্থী হয়ে শামা ওবায়েদ ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তবে এই আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। গত বছরের ২১ আগস্ট দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন, যার ফলে কেন্দ্রীয় বিএনপি উভয়কে দলীয় পদ স্থগিত করে। কয়েক মাস পর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

এই ঘটনায় শামা ওবায়েদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি নির্বাচনী হলফনামায় এ মামলাসহ মোট ১৮টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ১৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, শামা ওবায়েদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল, যা তিনি গত ২০ নভেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ত্যাগ করেন।

পেশাগত জীবন ও আর্থিক অবস্থা

শামা ওবায়েদ নির্বাচনী হলফনামায় নিজের পেশা ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্বামী শোভন ইসলাম (মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম) একজন ব্যবসায়ী। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

হলফনামায় শামা ওবায়েদ তাঁর বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা বলে জানিয়েছেন, যার মধ্যে চাকরি থেকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা ৯৬ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সম্পদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • ঢাকার বনানীতে একটি ফ্ল্যাট, যার দাম ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
  • নগদ টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা।
  • ব্যাংকে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা।
  • শেয়ার ও বন্ড ৫০ লাখ টাকা।
  • স্বর্ণালংকার ৫০ ভরি।
  • ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের একটি জিপ গাড়ি।
  • ফ্ল্যাট কেনা বাবদ ব্যাংকে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৪ টাকা ঋণ।

স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্যও দিয়েছেন শামা ওবায়েদ।