নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর নতুন সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের পর তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচনে তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ ভোট।
নবগঠিত মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীও
নবগঠিত মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। আগামী পাঁচ বছর দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে নেতৃত্ব দেবেন নিতাই রায় চৌধুরী। উল্লেখ্য, সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের হয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়
১৯৪৯ সালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নিতাই রায় চৌধুরী। তার স্ত্রী ঝুমা রায় চৌধুরী এবং তাদের দুই পুত্র ও তিন কন্যা রয়েছে। বড় ছেলে নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল এরশাদের সরকার।
এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী ইতিহাস ও প্রত্যাবর্তন
নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে, ২০০১ সালের অষ্টম, ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মাগুরা-২ আসন থেকে ভোট করে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
