বরিশালে সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ তিন নেতার জামিন: আদালতের ঐতিহাসিক রায়
গ্রেফতারের প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিন আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই জামিন মঞ্জুর করেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
জামিনপ্রাপ্ত নেতাদের পরিচয় ও পুলিশের বক্তব্য
বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।" একই সঙ্গে জামিন দেওয়া হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুনকে।
গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে বরিশালের অন্তত ৬টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই থেকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন জেবুন্নেছা। অন্যদিকে, মাহমুদুল হক খান মামুনকে ২০২৫ সালের ২০ মে সকালে ঢাকার নিজের বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
এছাড়া, ২০১৫ সালের ১৮ জুন রাতে বরিশাল নগরীর সাগরদী খালপাড় এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা জসিমকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি জসিমের জামিনে মুক্তি পেলেও তাকে কারাগারের গেট থেকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জসিম একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত।
মামলার বিবরণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থান চলাকালে বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যুবলীগ নেতা মামুনের বিরুদ্ধেও বরিশাল বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দায়ের করা হয়, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।
আদালতের এই জামিন রায় নেতাদের পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে, যদিও মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বন্দীদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
