জোনায়েদ সাকি তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শপথ অনুষ্ঠানের বিবরণ
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জোনায়েদ সাকি বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৫৫ হাজার ৩৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
নির্বাচনী ফলাফল
জোনায়েদ সাকি মোট ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মহসীন পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৭৬ ভোট। এই বিজয় তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থনকে প্রতিফলিত করে।
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক পটভূমি
জোনায়েদ সাকি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের চরলহনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মাসুদা খানম ও প্রয়াত মো. ফজলুর রহমানের সন্তান। তাঁর স্ত্রীর নাম তাসলিমা আখতার। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি বিএ পাস এবং ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা কর্মীদের নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট তিনি গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা
২০১৬ সালের ৪ ও ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণ দলের সংগঠনিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করে।
নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিযুক্তি বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দপ্তরে তাঁর দায়িত্ব পালন দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
