দীপেন দেওয়ান: বিসিএস কর্মকর্তা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে উত্তরণ
দীর্ঘ ১৯ বছর সরকারি চাকরি করার পর ২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে সক্রিয় হন দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম শেষে তিনি দায়িত্ব পেলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শপথ গ্রহণ করার পর বিকালে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির তার হাত ধরে ২৮ বছর পর রাঙামাটি পেলো কোনও পূর্ণ মন্ত্রী।
শিক্ষা ও কর্মজীবনের সূচনা
দীপেন দেওয়ানের প্রয়াত পিতা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দীপেন দেওয়ান ছাত্রজীবন থেকে কিছুটা সক্রিয় থাকলেও পরিবারের ইচ্ছায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন। দীপেন দেওয়ান মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন ১৯৭৮ সালে। পরে রাঙামাটি সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন এবং রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক হিসেবে ছাত্রদলের সঙ্গে পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। ১৯৮০-৮১ সেশনে ৮ম ব্যাচে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এলএলবি অনার্সে ভর্তি হন। আইন বিভাগে সফলতার সঙ্গে গ্রাজুয়েশন শেষ করে পারিবারিক চাপের মুখে ৭ম বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ ও উত্থান
২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে এসে বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছরের জুডিশিয়াল সার্ভিসের চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে সাবেক সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক পথচলারাঙামাটি বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যখন কোনও অভিভাবক পাচ্ছিলেন না, তখন জনাব দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেলা বিএনপির ত্রাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে। সংগঠন গুছিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ নানান কর্মসূচি পালন করতে থাকেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণে। দীপেন দেওয়ান প্রথমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
দীপেন দেওয়ানের পিতা প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদমর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক পথচলাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা তাকে আজকের মন্ত্রী পদে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
