মীরসরাইয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টানানোর অভিযোগ, পুলিশ বলছে গুজব
মীরসরাইয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টানার অভিযোগ, পুলিশ অস্বীকার

মীরসরাইয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টানানোর অভিযোগ

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রাতের আঁধারে ব্যানার টানানোর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে মীরসরাই পৌরসদরে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনের অংশে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে স্লোগান দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন কয়েকজন কর্মী।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সেখানে কোনও কার্যক্রম ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের নির্দেশনায় কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টাঙিয়ে চলে যান কয়েকজন।

ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, তিন ব্যক্তি একটি ব্যানার ভবনের গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন। এসময় তারা কয়েক সেকেন্ডের একটি স্লোগান দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনাটি রাতের অন্ধকারে সংঘটিত হয় এবং এটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে।

পুলিশের বক্তব্য

তবে ব্যানার টানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আসলে এটি গুজব। ব্যানার টাঙানোর কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।”

ওসি ফরিদা ইয়াসমিন আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে কোনও প্রমাণ পায়নি। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আস্থা রাখুন।”

পটভূমি

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মীরসরাইয়ে দলীয় কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। পূর্ববর্তী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনাটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও অস্বীকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ঘটনাকে নিয়ে বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন, কেউ কেউ ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ কেউ পুলিশের বক্তব্যের সমর্থন করছেন। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোনও অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।