মীর হেলালের মন্ত্রীত্বে হাটহাজারীতে আনন্দের বন্যা, বিএনপির তারুণ্যকে মূল্যায়ন
মীর হেলালের মন্ত্রীত্বে হাটহাজারীতে আনন্দের বন্যা

মীর হেলালের মন্ত্রীত্বে হাটহাজারীতে আনন্দের বন্যা, বিএনপির তারুণ্যকে মূল্যায়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদের আংশিক) আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার শপথগ্রহণের পর থেকেই হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসবের আমেজ।

ইতিহাস সৃষ্টি করে মন্ত্রীত্ব পেলেন মীর হেলাল

প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার মীর হেলাল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম-৫ আসন পুনরুদ্ধার করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন। এটি হাটহাজারী অঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, কেননা এর আগে এই উপজেলা থেকে কেউ মন্ত্রীত্ব পাননি।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে তার নাম প্রকাশ হওয়ার পর সংসদীয় আসনের বিভিন্ন প্রান্তে উৎফুল্ল মানুষজন মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নবাগত প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উপজেলার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।

বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি বলেন, "হাটহাজারী উপজেলার ভোটার এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আজকে উল্লাসিত। আমাদের এমপি মীর হেলাল প্রথম মন্ত্রী হয়েছেন। এজন্য আমি তারেক রহমানকে হাটহাজারীবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।"

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গাজী জাফর আলম উল্লেখ করেন, "এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে হেলাল উদ্দিন চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছেন। তিনি একজন বিজ্ঞ আইনজীবী ও অত্যন্ত সৎ ব্যক্তি। তাকে সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী করার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাকে ধন্যবাদ জানাই।"

বিএনপির মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও যোগ্যতার সমন্বয়

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দলটি এবার মন্ত্রিসভায় তারুণ্যকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছে। তরুণ সংসদ সদস্যদের দলের প্রতি অবদান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা থেকে আলোচনায় থাকা এমপিদের মধ্যে মাত্র দুজনকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত ব্যারিস্টার মীর হেলাল একজন।

তার দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং একজন যোগ্য ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণেই তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বলে নেতারা মন্তব্য করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা

হাটহাজারী পৌরসভার ৮নম্বর মীরের খীল গ্রামের আব্বাছিয়ার পুল এলাকার হাজী মুন্সী মিয়া বাড়ির ষাটোর্ধ্ব আবদুস শুক্কুর বলেন, "আমাদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়েছে। যোগ্য ও মেধাবী রাজনীতিবিদ মীর হেলাল প্রতিমন্ত্রী হয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।"

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যারিস্টার মীর হেলাল হাটহাজারী ও বায়েজিদ আসনকে একটি মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি উন্নত-সমৃদ্ধ, শান্তি-সম্প্রীতির নগরী হিসেবে হাটহাজারীকে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়েও স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনে ব্যারিস্টার মীর হেলাল ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মুনিরকে ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোটে পরাজিত করেন। তার পিতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।