বাবার স্বপ্ন পূরণ করলেন ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন বাবার রাজনৈতিক স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবগঠিত সরকারে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য
ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের তাতরাকান্দা গ্রামের ইসমাইল হোসেন তালুকদার ও শারমীন হোসেনের পুত্র। তার বাবা ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এম ইকবাল হোসেইন এর আগেও ধানের শীষ প্রতীকে তিনবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উল্লাস দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীকে ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ ঘোড়া প্রতীকে ৬৫ হাজার ৯৯৫ ভোট পান। অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের হিসাব নিম্নরূপ:
- বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টির মো. আবু তাহের খান: ২৫ হাজার ৭০৬ ভোট
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শরিফুল ইসলাম: ২ হাজার ৭৪৫ ভোট
- বাংলাদেশের সমাতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর এ কে এম আরিফুল হাসান: ৩৫৪ ভোট
ময়মনসিংহ-৩ আসনের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
রাজনৈতিক মামলা ও প্রত্যাহার
ইকবাল হোসেইনের বিরুদ্ধে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলা ছিল। ২০১৩ সালে গৌরীপুরে আন্তঃনগর ট্রেনে হামলার অভিযোগে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। একই বছর বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইন ১৯০৮ সংশোধনী ২০০২ এর ৩/৬ ধারায় গৌরীপুর থানায় আরেকটি মামলা হয়।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
এলাকায় আনন্দ উদযাপন
এম ইকবাল হোসেইন প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় গৌরীপুরে ব্যাপক আনন্দ উদযাপন করা হয়। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন পাপ্পুর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল করে শহরে এক মণ মিষ্টি বিতরণ করে।
জাহাঙ্গীর হোসেন পাপ্পু বলেন, "এম ইকবাল হোসেইন প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমরা আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরে এক মণ মিষ্টি বিতরণ করেছি। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। উনি আমাদের প্রতিমন্ত্রী উপহার দিয়েছেন। নতুন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে অবহেলিত গৌরীপুরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব, অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সর্বস্তরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"
অংশগ্রহণকারীদের তালিকা
এই আনন্দ উদযাপন কর্মসূচিতে অংশ নেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ার জাহান সবল, সদস্য আনোয়ার হোসেন, মজিবুর রহমান, হান্নান তালুকদার, শিপন মিয়া, পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ, সদস্য শাহিনুল ইসলাম হৃদয়, গৌরীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন শাকিল, যুবদল নেতা মো. আল-আমিন জহিরুল ইসলাম রমজান, মো. হেলাল উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
পূর্ববর্তী প্রতিমন্ত্রীর ইতিহাস
ময়মনসিংহ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১২ বছর পর আবারও এই এলাকার জনগণ একজন প্রতিমন্ত্রী পেলেন।
এম ইকবাল হোসেইনের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। গৌরীপুরের মানুষ এখন নতুন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়নের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
