বরগুনার বেতাগীতে ১৮ মাস পর খোলা আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙিয়ে পোড়ানোর ঘটনা
বেতাগীতে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙিয়ে পোড়ানোর ঘটনা

বরগুনার বেতাগীতে ১৮ মাস পর খোলা আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙিয়ে পোড়ানোর ঘটনা

বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায় দীর্ঘ ১৮ মাস পর খোলা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বেতাগী পৌর মার্কেটের অফিসে অবস্থান নেন উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল শামীম। তারা প্রথমে দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন এবং দেওয়ালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙান। এছাড়াও তারা অফিসের সইনবোর্ড স্থাপন করেন এবং দলীয় ব্যানার সংযুক্ত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল শামীম শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নিয়ে দলীয় অফিসের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করছেন। এরপর তারা দেওয়ালে প্রথমে শেখ হাসিনার ছবি, তারপর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে এতে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। শেষে তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে সইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন।

ছবি ও ব্যানার পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা

ছাত্রলীগ নেতারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং দলীয় ব্যানার পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে, কে বা কারা এই কাজটি করেছে তা এখনো জানা যায়নি। বেতাগী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আহসানুল কবির সোয়েব বলেন, "ফেসবুকে দেখেছি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা আওয়ামী লীগের অফিস খুলে ব্যানার টাঙিয়েছে। সন্ধ্যায় খবর পেয়েছি কে বা কাহারা সেই ব্যানার ও ছবি পুড়িয়ে দিয়েছে।"

পুলিশের বক্তব্য ও পটভূমি

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল ইসলাম জানান, কার্যালয় খোলার সময় ছবি ও ব্যানার স্থাপন বিষয়ে তার জানা নেই। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল এবং অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে ছিলেন। সংসদ নির্বাচনের পর আবার অনেকেই সক্রিয় হয়েছেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।