জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের প্রতিবাদ সমাবেশ, নির্বাচনোত্তর সহিংসতার অভিযোগ
জামায়াতের জোটের নির্বাচনোত্তর সহিংসতা প্রতিবাদ সমাবেশ

জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের প্রতিবাদ সমাবেশ, নির্বাচনোত্তর সহিংসতার অভিযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের আয়োজনে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা, দমন-পীড়ন, হামলা, হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়েছিল।

সমাবেশের উদ্দেশ্য ও বক্তব্য

ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের সহ-প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, "নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিবাদ।"

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল মসজিদের উত্তর গেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত মার্চ করে। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনোত্তর সহিংসতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

জোট নেতাদের উপস্থিতি

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রধান সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীসহ জোটের অন্যান্য সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার
  • নতুন নির্বাচিত ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন
  • ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল
  • দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
  • ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দিন
  • উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজাউল করিম
  • মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান
  • বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষাপট

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, যার মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে, যার মধ্যে জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি, খেলাফত মজলিস একটি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন জিতেছে।

এই নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই জোটটি নির্বাচনোত্তর সহিংসতার অভিযোগ তুলে আসছে, যা এই প্রতিবাদ সমাবেশের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে। সমাবেশে নেতারা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাদের সমর্থক ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা, দমন-পীড়ন ও অন্যান্য সহিংসতার ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।