বরগুনার বেতাগীতে ছাত্রলীগের নেতারা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দখল করে ছবি ও সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন। এই ঘটনায় তারা কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি টাঙানোর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে সাইনবোর্ডও স্থাপন করেছেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওতে ধরা পড়েছে ছাত্রলীগ নেতাদের কার্যক্রম
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল শামীম দলীয় কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছেন। তারা প্রথমে দেয়ালে শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে ফুলের মালা পরান, এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি স্থাপন করেন। শেষে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়, যা দলীয় কার্যালয়ের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত বহন করে।
ছাত্রলীগ নেতার বক্তব্য: শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, 'আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২সহ আমাদের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে। তার নির্দেশ পেয়েই আমরা বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাই এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় কার্যালয়ের ব্যানার টাঙাই। বিগত সময়েও আমরা বেতাগী উপজেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করেছি।' তার এই বক্তব্য দলীয় পুনরুজ্জীবনের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়।
পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বেতাগী থানার ওসি জুয়েল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে জানান, 'বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে ছবি ও ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।' অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান বলেন, 'আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে ছাত্রলীগ বেতাগী দলীয় কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এত দিন দেশে কোনও গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না, তাই দলীয় কার্যালয়ে যেতে পারেননি নেতাকর্মীরা। এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, তাই দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।' তার মন্তব্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
পটভূমি: গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বেতাগী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে তালাবদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সময় থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান, যা দলীয় কার্যক্রমকে স্থবির করে তোলে। তবে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এসব নেতা–কর্মীদের অনেকেই আবার সরব হয়ে উঠেছেন, এবং এই ঘটনা তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক পুনর্গঠনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
