জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি: সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে আরেকটি অভ্যুত্থানের আশঙ্কা
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ না হলে বাংলাদেশ আরেকটি অভ্যুত্থানের সাক্ষী হতে পারে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
গোলাম পরওয়ার সমাবেশে বলেন, “নির্বাচন পরবর্তী যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ না হলে আরেকটি অভ্যুত্থানের সাক্ষী হতে পারে বাংলাদেশ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনি ঐক্যের পক্ষ থেকে যেসব আসন নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
সোমবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। সারাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য
বিক্ষোভ সমাবেশে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে শুরু হওয়া মিছিলটি শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে নেতারা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার কড়া ভাষায় নিন্দা জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষের ব্যালটের অধিকার নিয়ে তামাশা করা হয়েছে। প্রহসনের ফলাফলের পর সারাদেশে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করছে সাবেক মজলুম দল। রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের পর আর কোনও ফ্যাসিবাদ এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত না থাকলে আমরা আবার মাঠে নামবো।”
হাদি হত্যার বিচার ও সংস্কারের দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে হাদি হত্যার বিচার ও সংস্কার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ভোট ডাকাতদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে গেছে। তাদের কাছ থেকে পাওনা বুঝে নেবো। হাদি হত্যার বিচারে পদক্ষেপ নিন। সংস্কারে হ্যাঁ ভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে আসবে জুলাই শক্তি।”
এই বিক্ষোভ সমাবেশটি নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনা ও বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নেতাদের বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা ফুটে উঠেছে।
