সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা: সীমানাপ্রাচীর ও সিসিটিভি ভাঙচুর
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচানা গ্রামে এক রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হকের বাগানবাড়িতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা সীমানাপ্রাচীর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে। গত রোববার রাত নয়টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
আসাদুল হকের স্ত্রী মেহেরুন্নছা জানান, তিনি ঘটনার সময় বাড়ির দোতলায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে ৬০ থেকে ৭০ জন লোকের একটি দল বাড়ির সামনের সীমানাপ্রাচীর ও পুকুরপাড়ের প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এরপর তারা মূল ফটকের সামনে স্থাপিত দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং জানালার কাচ এলোপাতাড়ি ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপ চালিয়ে পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
মেহেরুন্নছা আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এবং স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে কুলিয়া ইউনিয়নের সবুজ চৌধুরী, জিয়াউর রহমান, বাপ্পি, নাসিরউদ্দিন ও আনারুলসহ কয়েকজনের নাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দ্রুত সদর থানাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ
আসাদুল হক সরাসরি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "এটি একটি পরিকল্পিত হামলা, যার পেছনে আমার রাজনৈতিক বিরোধীদের হাত রয়েছে।" স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চলমান থাকায় এই ঘটনায় জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও অবস্থান
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর রোববার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তবে আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত জোরদার করছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই হামলাকে অশান্তিকর ও ভীতিপ্রদ বলে বর্ণনা করেছেন। তারা দ্রুত বিচার ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।
