বিএনপি সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: মেধাবীদের জন্য নতুন সুযোগ
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুবই সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিগত সতেরো বছরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সার্ভিসে যেসব মেধাবী, দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চনাসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের দেশের স্বার্থে কাজে লাগানো। তবে সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাবে না বলে জানা গেছে।
দুই বছরের মধ্যে লাগাম টানা হবে
নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেধাভিত্তিক গতিশীল প্রশাসন গড়ে তোলার প্রশ্নে সরকারের মেয়াদে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের লাগাম টেনে ধরা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতির বাইরে রেখে শুধুমাত্র জনস্বার্থে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিসিএস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিবের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, 'দায়িত্ব নিতে যাওয়া বিএনপি সরকারকে কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতেই হবে। কারণ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অসংখ্য মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দফায় দফায় পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুযোগ থাকলেও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি- এমন কর্মকর্তার সংখ্যাও কম নয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত মেধাভিত্তিক দক্ষ প্রশাসন করতে চাইলে আমাদের কিছু সিনিয়র স্যারদের কাজের সুযোগ দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।'
সব সার্ভিসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারদের মূল্যায়ন
সূত্র আরও জানায়, শুধু জনপ্রশাসনে নয়, সব সরকারি সার্ভিসে যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তাদের সুযোগ ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিএনপি সরকার মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতাবৃদ্ধিসহ তাদের জনগণের সেবা দেওয়ার মানসিকতায় গড়ে তোলা হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত করবে। তবে এটা স্পষ্ট যে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা, যা দ্রুত মেধাভিত্তিক স্থায়ী নিয়োগ ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে।
