বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল: শেখ হাসিনার উপস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বাধা নয়
বিএনপি নেতা: হাসিনার উপস্থিতি সম্পর্কে বাধা নয়

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল: শেখ হাসিনার উপস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বাধা নয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুর কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সাক্ষাৎকারে মূল বক্তব্য

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা। তবে তিনি এও জানান, শেখ হাসিনাকে পাঠানো না হলেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সম্পর্ক স্থাপনে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। বিএনপি নেতা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। ফখরুল জানান, বাংলাদেশের স্বার্থে প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতে অবস্থান করলেও তখনকার বিএনপি নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন। একই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ঢাকায় এসেছিলেন।

তিনি দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন:

  • গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি
  • ফারাক্কার পানি বণ্টন ইস্যু
  • সীমান্তে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বিষয়

ফখরুলের মতে, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো সুযোগ নেই, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তিনি আমেরিকা ও চীনের সম্পর্কের উদাহরণ দিয়ে বলেন, জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে।

নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার

বিএনপি নেতা জানান, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন:

  1. আওয়ামী লীগের ঋণের বোঝা কমানো
  2. মেগা প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করা
  3. বাংলাদেশের স্বার্থে কার্যকর প্রকল্পগুলো বজায় রাখা

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি শিক্ষা, ব্যবসা ও ডিজিটাল অবকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করার ওপরও জোর দেন তিনি।

২০২৪ সালের সহিংস অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জটিলতা থাকলেও সহযোগিতার ক্ষেত্র বন্ধ হওয়া উচিত নয়।