খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে 'জয়বাংলা' স্লোগান ও ফুল দেওয়ার পর ভাঙচুরের ঘটনা
খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির নেতাকর্মীদের দেখা গেছে। তারা সেখানে 'জয়বাংলা' স্লোগান দিয়েছেন এবং ফুল দিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয়টি ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন যশোর লোয়ার রোডের শঙ্খ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিএম আরিফের নেতৃত্বে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে আসেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে তাতে ফুলের মালা দেন এবং 'জয়বাংলা' স্লোগান দেন। এরপর তারা কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওঠার গেটে তালা লাগিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত বলে আলোচিত দলটির এমন কার্যক্রমে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টিএম আরিফের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
ভাঙচুরের ঘটনা
এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। তারা কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এই ঘটনা খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। নগরবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এবং তারা মনে করছেন, তা না হলে শান্ত খুলনা আবারও অশান্ত হতে পারে।
পূর্ববর্তী ঘটনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর একদিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি। এই নতুন ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
