ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুললেন নেতাকর্মীরা, উত্তোলন হলো জাতীয় ও দলীয় পতাকা
পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুললেন নেতাকর্মীরা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুললেন নেতাকর্মীরা

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় কার্যালয় খুলেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পীরগঞ্জ পৌর শহরের লিচুতলা এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা জড়ো হন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়ের দরজা উন্মুক্ত করেন।

জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান

নেতাকর্মীরা প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন, এরপর তারা কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় প্রায় ২০-২৫ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম রব্বানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন মণ্ডল, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিগান, সাবেক ছাত্রনেতা সাগর, কুরবান আলী এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কবির ইসলাম।

নেতাদের বক্তব্য: ঐক্য ও অঙ্গীকারের প্রতীক

পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, 'দীর্ঘ ১৭-১৮ মাস ধরে আমরা রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারিনি। আজ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাই। এরপর সেখানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি তৃণমূল আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গণমানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার প্রতীক। গোলাম রব্বানী জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করা হবে।

এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। নেতাকর্মীরা দাবি করেন, এটি দলীয় সক্রিয়তা পুনরুজ্জীবিত করার একটি পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে আরও সংগঠিত কার্যক্রমের দিকে নিয়ে যাবে।