খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা
খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন

খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উত্তেজনাকর ঘটনা: প্রবেশ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

প্রায় দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিনের মাথায় খুলনায় একটি রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে লোহার রোড সংলগ্ন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, যা পরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রূপ নেয়।

কার্যালয়ে প্রবেশ ও প্রতিক্রিয়া

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭/৮ জন নেতাকর্মী নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন (শঙ্খ মার্কেট) মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে যান। তারা নিচের মেইন গেটের তালা খুলে দোতলায় উঠে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং পরে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিক্ষুব্ধরা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

কার্যালয়ে প্রবেশের সময় উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, "রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই- আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাবো।"

খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন জানান, বিকেলে হঠাৎ করে ৭/৮ জন আওয়ামী লীগ অফিস খুলেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সন্ধ্যার পর 'রেড জুলাই' নামের ৭-৮ জন ছাত্র আওয়ামী লীগ অফিস খোলার প্রতিবাদে কার্যালয়ে আগুন দেয়, যা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত নিভিয়ে ফেলেন।

পূর্ববর্তী ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতি

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সর্বশেষ রোববার বিকেল ৪টার দিকে কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশের ঘটনাটি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

নগরীর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, "সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিসে সামান্য আগুন দেওয়া হয়েছিল। আমরা দ্রুত সেই আগুন নিভিয়ে ফেলেছি।" এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।