বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ: ঐতিহাসিক মুহূর্তের দাবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের বাসভবন ও কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমান বসুন্ধরায় পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শফিকুর রহমানসহ জামায়াতের অন্য নেতারা। এরপর সেখানে সৌজন্য বৈঠকটি করেন তারা।
শফিকুর রহমানের ঐতিহাসিক মন্তব্য
সাক্ষাৎ শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। ছবির ক্যাপশনে তিনি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। শফিকুর রহমান লেখেন, ‘তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।’
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে আশ্বাস
শফিকুর রহমান আরও লেখেন, ‘আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।’
সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা ও জবাবদিহিতা
জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
উপস্থিত নেতাদের তালিকা
এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এই বৈঠকটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
