দিনাজপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের স্লোগান, প্রতিবাদে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হঠাৎ কয়েকজন নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিকেলে একদল জুলাই আন্দোলনকারী কার্যালয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যা স্থানীয়ভাবে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ও স্লোগান
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাতজন নেতা-কর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে একজন মুঠোফোনে সেলফি তোলার ভঙ্গিতে ভিডিও ধারণ করছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও প্রমাণিত করে। এ সময় তাঁরা শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই এবং শেখ হাসিনা ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই বলে কয়েকবার স্লোগান দেন। উপস্থিতদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ খালেদ হাবিব (সুমন), সাংস্কৃতিক সম্পাদক রহমতুল্লাহ রহমত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাহ উদ্দিন এবং সদস্য রুহানা নিশাত প্রমুখকে চিহ্নিত করা যায়।
প্রতিবাদে জুলাই আন্দোলনকারীদের অগ্নিসংযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যার কিছু আগে কয়েকজন জুলাই আন্দোলনকারী শহর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ফয়সাল মোস্তাক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধঘোষিত দলের নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মিনহাজ ও সুমন নামের দুজন জুলাই যোদ্ধার নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং শহীদের রক্তের দাগ শুকায়নি বলে দাবি করেন।
কার্যালয়ের পটভূমি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় আওয়ামী লীগের দুটি দ্বিতল দলীয় কার্যালয় রয়েছে, যেখানে জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারীরা আগুন জ্বালিয়ে দুটি কার্যালয়ই পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছিল। সেই থেকে ভবন দুটির সামনের দেয়াল ভাঙাচোরা অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে, যদিও জেলা কার্যালয়ের সামনে একজন চায়ের দোকান পরিচালনা করছেন। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরুন্নবী জানান, তিনি ফেসবুকে ভিডিও দেখেছেন এবং ঘটনাস্থলে নেতা-কর্মীরা বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। তিনি শহরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যান্য এলাকায় অনুরূপ ঘটনা
এদিকে রোববার বিকেলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় বিজয় চত্বর এলাকায় একদল নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রোকনুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোনায়েম মিঞা, শতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং পাল্টাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ। এই ঘটনাগুলো দিনাজপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।
