খুলনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে উত্তেজনাকর ঘটনা: ১৮ মাস পর পতাকা উত্তোলন, পরে সংঘর্ষ
খুলনা শহরে একটি রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর নিষিদ্ধ কার্যক্রমের পর আবারও কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। রবিবার দুপুরে খুলনা সদর থানার শহীদ হাদিস পার্কের সামনে শঙ্খ মার্কেটে অবস্থিত সংগঠনটির মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের তালা খুলে দোতলায় উঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন এবং শীর্ষ নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা স্থানীয় দোকানিদের জানান যে খুব শীঘ্রই অফিসের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। তবে এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যায় 'রেড জুলাই' নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা এসে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান এবং উত্তোলিত পতাকা ও ছবিগুলো অপসারণ করেন।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'দুপুরের দিকে কিছু লোকজন আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে শীর্ষ নেতাদের ছবি টানান ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় 'রেড জুলাই' নামে একটি সংগঠনের লোকজন এসে তা ভাঙচুর ও অপসারণ করেন।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পুলিশ আশপাশের সিসি ক্যামরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় জেলা আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং দলীয় কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এই নতুন ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
ঘটনাটি খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ঘোষণা দিয়েছে।
