খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ফিরলেন নেতা-কর্মীরা, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিলেন
খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ফিরলেন নেতা-কর্মীরা

খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ফিরলেন নেতা-কর্মীরা

খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। রোববার বিকেলে নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে প্রবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একদল নেতা-কর্মী।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ফুলের মালা প্রদান

এ সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কার্যালয়ে আসা নেতা-কর্মীদের একজন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, যিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। আজ রোববার চারটার দিকে আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি।’

নেতা-কর্মীদের দাবি ও উদ্দেশ্য

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে নতুন কার্যালয়ে একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাধা দেয়নি।’ দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করে ওই নেতা বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আগামী যেকোনো কর্মসূচির জন্য আমরা প্রস্তুত, শুধু ডাক বা নেতৃত্বের অপেক্ষা।’

তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁরা ২৫-৩০ জন ছিলেন এবং সবাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। তবে কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা সেখানে ছিলেন না বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ ও সদর থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেলের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, ‘এত দিন একটি অবৈধ সরকার ছিল, মবের রাজত্ব চলছিল। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে হিসেবেই আমাদের নেতা-কর্মীরা আজ কার্যালয়ে গেছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের ওপর যে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ছিল, আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি, শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি, যা আজকের ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ভিডিওতে কার্যালয়ে আসা নেতা-কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়, যা তাদের মনোবল ও সংগঠনের শক্তি নির্দেশ করে। এই ঘটনা খুলনা অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিশীলতার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।