শেখ কবির হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রবিবার বিকালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ছিয়াশি বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
শেষ শ্রদ্ধা ও জানাজা অনুষ্ঠান
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাদ জোহর নিজের প্রতিষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শেখ কবির হোসেনকে ‘গার্ড অব অর্নার’ প্রদান করা হয়। তারপর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান, শেখ কবিরের ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপু, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
শেখ কবির হোসেন ১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন এবং মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। তার আপন চাচাতো ভাই ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ কবির হোসেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পর্যটন করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেছেন। ১৯৭৫ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১১ সালে। এরপর টানা তেরো বছর এই পদে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
