বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা দাবি: শফিকুল আলমের ভাষ্যে ৯০ শতাংশ অর্জন
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেছেন যে, এই সরকার তার দায়িত্বকালে ৯০ শতাংশ সফলতা অর্জন করেছে। তিনি আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এই মত প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনটি উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকের পর আয়োজিত হয়, যেখানে বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক ও সফলতার যুক্তি
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক আজ রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'একেকজন তো একেক রকম মনে করে। আমি ৩০ বছর ধরে সাংবাদিকতা করেছি। আমার মনে হয়েছে এবং ১৮ মাস এই সরকারকে যতটা নিবিড়ভাবে দেখেছি, যে ধরনের আমলাতন্ত্র, যে ভঙ্গুর অর্থনীতি আমরা পেয়েছি, সেই বিচারে আপনি যদি এই সরকারের কাজগুলো দেখেন... আমি বলব, আমার ব্যক্তিগত মত এরা ৯০ শতাংশ সফল।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের করা অধ্যাদেশগুলো প্রতিটি আইনে পরিণত হবে বলে তিনি মনে করেন। এই বক্তব্যে সরকারের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোর প্রতি আস্থা প্রকাশ পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন ও বিদায়ের প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল।
আগামী মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে, যা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত হবে। উপদেষ্টারা পতাকাবাহী গাড়িতে করে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং শপথ শেষে পতাকা ছাড়া গাড়িতে করে বাসায় ফিরবেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় সম্পন্ন হবে।
নতুন সরকার গঠনে বিএনপির অগ্রগতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই যুগ পর সরকার গঠন করছে বিএনপি। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে দলটি আগেই ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
শফিকুল আলমের এই মূল্যায়ন অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে।
