ছাত্রদল সভাপতির তীব্র অভিযোগ: জামায়াত-শিবিরের 'ইহুদি স্টাইলে' গুপ্ত রাজনীতি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে 'ইহুদি স্টাইলে' অপকৌশলের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, এই সংগঠনগুলো তাদের নেতাকর্মীদের পরিচয় যুগের পর যুগ গোপন রেখে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত অভিযোগ
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাকিবুল ইসলাম এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, 'জামায়াত ইসলাম ও ছাত্রশিবির তাদের সমর্থক তো দূরের কথা, তাদের কয়েক লাখ একনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের পরিচয় গুপ্ত রেখে তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় দলীয়ভাবে দায় নিচ্ছে না।'
ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, 'এ ধরনের ইহুদি স্টাইলের অপকৌশলের রাজনীতি করার কারণে জামায়াত-শিবিরকে আমরা এবং আলেম সমাজ মোনাফেক হিসেবে আখ্যায়িত করি।'
গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা
রাকিবুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানান, 'বাংলাদেশে আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি চলবে না। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের সবগুলো কমিটি প্রকাশ করতে হবে।' তিনি বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের বাস্তব জীবনযাপন সম্পর্কে জানা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, 'আমরা দেখতে চাই, তাদের কয়েক লাখ নেতাকর্মীদের কেউ কখনও পারিবারিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত সমস্যামুক্ত কি-না। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা কি ভিন্ন গ্রহের ফেরেশতা কি-না, তা যাচাই-বাছাই করার সময় এসেছে।'
বিএনপির বিরুদ্ধে অপকৌশলের বিস্তারিত বর্ণনা
রাকিবুল ইসলাম বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান অপকৌশলের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, 'বিএনপি তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যদি বাংলাদেশের বাস্তবতার নিরিখে কোনো সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মব করা হয়। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নামে নোংরা ও অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক গুজব ছড়ানো হয়, সাথে সাথে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে ফটোকার্ড তৈরি করে পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের অপকর্মগুলো শিবির সরাসরি না করে তাদের বি-টিম এবং সি-টিমকে কাজে লাগায়।'
রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান
ছাত্রদল সভাপতি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'লাখ লাখ নেতাকর্মীদের গুপ্ত রেখে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার এ অপকৌশলের রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না।' তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, 'অচিরেই এ বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সুরাহা করা হবে।'
রাকিবুল ইসলামের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
