মুন্সীগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার
বিএনপি সমর্থক হত্যায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার

মুন্সীগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে সংঘটিত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক জসিম উদ্দিনকে (৩০) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. শাকিল দেওয়ানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস মিয়াজী ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক মোল্লা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা-পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকিলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। অভিযুক্ত শাকিল দেওয়ান সদর উপজেলার চর আবদুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের একজন সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

জেলা কমিটির নেতার বক্তব্য

স্বেচ্ছাসেবক দলের মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস মিয়াজী এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘শাকিল দেওয়ানের বিরুদ্ধে হত্যার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি এবং তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করেছেন। এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করেছি। হত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর আমরা তাকে দল থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তার এই বক্তব্য দলটির কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ

এই বহিষ্কারের পেছনে রয়েছে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে নির্বাচনী বিরোধের জেরে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক জসিম উদ্দিন, তার বাবা মাফিক নায়েব ও ভাই মোখলেস নায়েবকে তাদের নিজ বাড়ির পাশেই পিটিয়ে ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন ধানের শীষের সমর্থক নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে শাকিল দেওয়ান। দুর্ভাগ্যবশত, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আহত জসিম উদ্দিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বাবা ও ভাই বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাটি মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্বাচনী উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে নেওয়া এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখনও এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।