বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় ৪ নেতা
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি তাদের নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। একই সঙ্গে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের চার গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দলের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ইসমাইল জবিউল্লাহ, মাহদী আমিন, রুহুল কবীর রিজভী এবং ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির এই পদগুলির জন্য বিবেচনাধীন রয়েছেন।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সম্ভাব্য দায়িত্ব
বিবেচনাধীন নেতাদের মধ্যে রুহুল কবীর রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, যা টেকনোক্র্যাট হিসেবে চিহ্নিত। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, সেটিও টেকনোক্র্যাট কোটায়। দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, আর চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের অংশীদারত্ব
কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ফলে নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একসঙ্গে ছিলেন, সরকার গঠন প্রক্রিয়াতেও তাদের অংশীদারত্ব রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। এছাড়া রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দারও বিবেচনায় রয়েছেন।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরু হবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করবেন। নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে, সেটা নির্বাচনে বিজয়ী দলই নির্ধারণ করবে।
এই প্রক্রিয়ায় বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে সচেষ্ট হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। টেকনোক্র্যাট নেতাদের অন্তর্ভুক্তি সরকারের কার্যকারিতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
