নোয়াখালীর সেনবাগে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ
সেনবাগে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

নোয়াখালীর সেনবাগে নির্বাচন-পরবর্তী হামলার অভিযোগ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এসব হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে দুই দলের নেতা-কর্মীরা দাবি করেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সংঘটিত হয়েছে।

জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

সেনবাগের তিনটি স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মরধর করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। গত শুক্রবার সকাল থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ডমুরুয়া, বিন্নাগনি ও শ্যামেরগাঁও গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হালিম (৫০) সহ কমপক্ষে তিনজন।

উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াছিন করিম জানান, নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ডমুরুয়া, বিন্নাগনি এবং আজ শ্যামেরগাঁও গ্রামে দলের ইউনিয়ন সেক্রেটারিসহ তিনজনের ওপর হামলা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে থানা-পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও জানিয়েছেন।

বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

অপরদিকে বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে জামায়াতের কর্মীদের হামলায় কানুরচর গ্রামে তাঁদের পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী দাবি করেন, জামায়াতের কোনো কর্মীর ওপর বিএনপির কিংবা সহযোগী সংগঠনের কেউ হামলা চালায়নি। বরং জামায়াতের কর্মীরাই কানুরচরে হামলা চালিয়ে বিএনপির পাঁচজনকে আহত করেছেন।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যেখান থেকেই তাঁরা সংবাদ পাচ্ছেন তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠাচ্ছেন। কালালাইতা গ্রামে হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে থানায়। এ ছাড়া অন্য কোনো জায়গার ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার পরাজয়ের পর শুক্রবার সকালে সেনবাগ পৌরসভার বিন্নাগনি এলাকায় স্থানীয় জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে (৬০) মারধর করেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই দিন দুপুরে ডমুরুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হালিম ও তাঁর ছেলেদের ওপর হামলা চালান স্থানীয় ধানের শীষের কর্মীরা। আজ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের শ্যামেরগাঁও গ্রামে জামায়াত কর্মী মো. আবদুল্লাহকে (৩০) মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনাগুলো নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক দিক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।