নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচিত সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটবে। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে নব-নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করবো এবং বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবো। এই শুভ মুহূর্তের জন্য সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভিত্তিহীন অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বর্তমানে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। তিনি এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার আখ্যা দেন এবং উল্লেখ করেন যে এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।
তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে বলে তিনি জোর দেন।
ভোটারদের প্রতি উৎসবে ভোট দানের আহ্বান
প্রধান উপদেষ্টা ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা দলে দলে সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। তিনি বলেন, আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে রয়েছে এবং সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।
তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি সকলকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। এই নির্বাচনকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তার এই ভাষণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে স্পষ্টতা আনার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে।
