ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নীলা ইসরাফিল। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার শেয়ার করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
নীলা ইসরাফিলের ঘোষণা
পোস্টে নীলা ইসরাফিল লিখেছেন, ‘সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা আমাদের অধিকার। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।’
কে এই নীলা ইসরাফিল?
পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নীলা ইসরাফিল আলোচনায় আসেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী তিনি। এই নেত্রী মুয়াজের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিষয়টি প্রকাশে আসে এবং ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সত্যতা নিশ্চিত করেন। এরপর নিজ দল এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তুমুল আলোচনায় আসেন তিনি।
নীলা ইসরাফিল গোপালগঞ্জের মেয়ে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাকে রাজপথে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া রাজনৈতিক দলে যোগ দেন নীলা। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দেখা গেছে তাকে।
মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি
গণমাধ্যম সূত্রে নীলার আরও পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি একাধারে একজন মডেল ও অভিনেত্রী। তার অভিনীত সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি গত ঈদে প্রচারিত হয়েছে। দুটি নাটকই ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। এরই মধ্যে নীলা মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’ এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া তিনি ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি সিনেমাতে অভিনয় করছেন।
অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘কুয়া’ নাটকে নীলা প্রথম অভিনয় করেন। অনেক ধারাবাহিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’ ইত্যাদি। রায়হানের নির্দেশনায় নীলা প্রথম একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। প্রায় ৫০টি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক অবস্থান
নীলা ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, ‘একজন নারীকে অপমান, নিপীড়ন ও সামাজিকভাবে ধ্বংসের চেষ্টা যে ব্যক্তি করেছে, তার বিরুদ্ধে যখন কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয় না, বরং সে দলীয় ছত্রছায়ায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেই দল আর কোনো মতাদর্শ বা ন্যায়বিচারের প্রতিনিধিত্ব করে না।’



