ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার জামায়াতের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রচারিত হলে এর পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
ছাত্রশিবিরের বিবৃতি
শুক্রবার বিকালে এক বিবৃতিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, 'ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় একজন দায়িত্বশীলকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।' তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'ইসলামী ছাত্রশিবিরের যে কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে থাকাবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই।'
শিবিরের প্রচার সম্পাদক ফরহাদ আরও বলেন, 'ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে দায়িত্ব শেষ করে বিদায় নেওয়ার পর যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।' তিনি বর্তমান সেশনের কোনো দায়িত্বশীলকে নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
জামায়াতের নিশ্চয়তা
এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের একটি দায়িত্বশীল সূত্র শুক্রবার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে যে, সাদিককেই জামায়াত থেকে প্রার্থী করা হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যদি ঢাকা সিটি দক্ষিণের নির্বাচন ডাকসু মেয়াদের মধ্যে হয় সেক্ষেত্রে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করা হবে না। কিন্তু সিটি নির্বাচন যদি ডাকসু মেয়াদের পর হয় তখন সাদিক কায়েমই হবেন মেয়রপ্রার্থী। এভাবেই দলীয়ভাবে বিষয়টি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সাদিক কায়েমের প্রস্তুতি
নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি হিসেবে সাদিক কায়েম ইতোমধ্যে তার জাতীয় পরিচয়পত্র খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটার হয়েছেন। যদিও এখনো প্রকাশ্যে বড় কোনো নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেননি, তবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সাদিক কায়েম শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তাকে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।



