ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়া এমন একজন নেতা, যিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না। তিনি ওবায়দুল কাদেরের একদিনের ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, 'এমন কোনো মানুষ বাংলাদেশে নেই, যার কাছে তিনি ক্ষমা চাইতে পারেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনোই মাথা নত করেননি।'
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর
পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, যেখানে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে কিন্তু কোনো ধরনের দাসত্ব থাকবে না। 'আমরা সবার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখব, তবে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কিন্তু তা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো নির্ভরশীল নয়; বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে,' বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা
জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকার সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, বিপদের দিনে তারা বিএনপির পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও বেগম খালেদা জিয়া সবসময়ই তাদের বিচারের স্বচ্ছতার দাবি তুলে উদারতা দেখিয়েছেন।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত। '১৯৭১ সালের ভূমিকা যদি ভুল হয়ে থাকে, তবে তার জন্য ক্ষমা চাইতে সমস্যা কোথায়?'
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুততম সময়ে এই আন্দোলনকে নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি কোনো একক দলের অর্জন নয়, বরং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। যারা আজ সংসদে আছেন তাদের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী এই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছেন।



