বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পাননি ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ওয়ার্ড নেতা মো. শাহরুখ খান। পরে বাবার মরদেহ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে তাকে শেষবার দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। শাহরুখ নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। বুধবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শাহরুখের বাবা আবুল বাশার খান (৬০) মারা যান।
গ্রেপ্তারের পর কারাগারে
জানা গেছে, শুক্রবার ২৪ এপ্রিল মধ্যরাতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সার্কুলার সড়কের নিজ বাসা থেকে পুলিশ শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। শাহরুখের আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, শাহরুখকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
পরিবারের আবেদন নাকচ
শাহরুখের ভাই সালমান খান জানান, তার ভাইকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপরে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে জানান, প্যারোলে মুক্তি হবে না। সন্তানকে দেখানোর জন্য মরদেহ কারাগারে নিতে হবে। বিকেল পৌনে ৪টায় তার বাবার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে কারাগারে নেওয়া হয়। ৪টার দিকে মরদেহের সঙ্গে তিনজনকে কারাগারে ঢুকতে দেওয়া হয়। মরদেহ দেখার জন্য কারাগারে ভেতরে তাদের মাত্র ৫ মিনিট থাকতে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক মামলা
সালমানের ভাষ্য, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আরও ৩টি মামলায় আসামি করা হয়েছে। বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা প্যারোলে মুক্তির আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ডিসি স্যার বলেছেন, আসামি শাহরুখের স্বজনদের কারাফটকে লাশ নিয়ে দেখা করানোর ব্যবস্থা করাতে। ডিসি স্যারের কথাটাই স্বজনদের আমি বলেছি।’ এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



