জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না এবং করলে তা ডাবল অপরাধ। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই শুরু করলে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বক্তব্যের মূল বিষয়
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে ইঙ্গিত করে বলেন, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মহাসমুদ্রের চেয়েও গভীর। ৫ অগাস্টের আন্দোলনকে তিনি বিপ্লব নয়, গণঅভ্যুত্থান বলে অভিহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ অগাস্টের তুলনা করাকে তিনি প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা বলে মন্তব্য করেন।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
বক্তব্যে তিনি পাল বংশ, সেন শাসন, মোগল শাসন, পলাশীর যুদ্ধ, সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, ক্ষুদিরাম, চিত্তরঞ্জন দাস, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সুভাষচন্দ্র বসু, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডারদের নাম স্মরণ করেন এবং ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্পিকার বারবার সদস্যদের বসতে বলেন এবং সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এবং প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কার্যপ্রণালী বিধি মেনে সংসদ চালানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি অতীতের নাজমুল হুদার ঘটনার উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করবেন না এবং সংসদের স্বার্থে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন। তিনি ফজলুর রহমানকে ইতিহাসে সমৃদ্ধ প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করার আহ্বান জানান।
যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যু
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও পুলিশের ইনডেমনিটি ইস্যুতেও কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আল-বদরদের শোক প্রস্তাব করা ইতিহাসের ভুল বার্তা দেবে। পুলিশ হত্যা ও থানা লুটের ঘটনায় ইনডেমনিটি না দিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
সবশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন যে, সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ এক নন এবং মোহাম্মদী বেগ সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল। এ কথার মাধ্যমে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।



