কিশোরগঞ্জের জেলা শহরের পুরোনো থানা এলাকায় জমি দখলের অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কলার ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম (আশফাক)। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে এবং এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, মাহতাব উদ্দিন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি। তাকে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ধরা হয়, যেখানে বিএনপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মাহতাবকে নিয়ে যায়।
বিএনপি নেতার বক্তব্য
বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মাহতাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে টিনপট্টি এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করেছেন। এমনকি নদীর পাড়ের বেশ কিছু সরকারি গাছও কেটে ফেলেছেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে আমি শুক্রবার বিকেলে টিনপট্টি এলাকায় যাই। এ সময় মাহতাব উদ্দিন মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। উত্তেজিত জনতার সামনে থেকে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে জনতার সহায়তায় তাঁকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।’
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, মাহতাব উদ্দিন বহু মানুষের জায়গাজমি দখল করেছেন। তাঁর অত্যাচারে মানুষজন অতিষ্ঠ। একসময় জাতীয় পার্টি করলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নদীর পাড় দখলসহ নানা অসদুপায় অবলম্বন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তাঁর এক ছেলেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আসামি হয়ে পলাতক রয়েছেন। বিগত ১৭টি বছর মাহতাব ও তাঁর ছেলেদের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের বক্তব্য
অন্যদিকে মাহতাব উদ্দিনের চাচাতো ভাই টিটু মিয়া বলেন, তিনি (মাহতাব) একজন সম্মানিত লোক। তাঁর যদি কোনো অপরাধ থাকে, তাহলে সেটা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রকাশ্যে জনতার সামনে এভাবে একজনের কলার চেপে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি।
পুলিশের অবস্থান
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, জনতা মাহতাব উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। তিনি এখন থানায় আছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



