পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ
মামলায় উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হোসেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদ হাসান, সেক্রেটারি আসাদুল ইসলামসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলা দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সময় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ছাত্রদলের অস্থায়ী একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।
ছাত্রদলের বক্তব্য
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বলেন, 'আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ সময় আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর ও একটি অফিস ভাঙচুর করেছে তারা। আমরা চাই প্রশাসন যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে।'
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য
ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজিব হাসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, 'ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে আমাদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। এ জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছি এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বকুলের মোড় থেকে মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ গেটের সামনে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।'
পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



