দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী, আদালত জামিন নামঞ্জুর
দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী, আদালত জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার কোলে রয়েছে মাত্র দেড় মাস বয়সি এক পুত্রসন্তান— কাইফা ইসলাম সিমরান।

আদালতের শুনানি ও জামিন আবেদন খারিজ

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বেলা দুইটার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন। তদন্তে বলা হয়েছে, আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুসহ কারাগারে যাওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য

শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি শুনানিতে উল্লেখ করেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের পুত্রসন্তান রয়েছে এবং তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন, কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিকাল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত থেকে বের করা হলে, আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি। পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী শিশুটিকে। আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। এরপর ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় তিনি কাঁদতে থাকেন এবং যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্তের বিবরণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

তদন্তে জানা যাচ্ছে, আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেন।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি নবজাতক শিশুকে নিয়ে একজন মায়ের কারাগারে যাওয়ার মর্মান্তিক চিত্র উঠে এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্তে শিশুটির ভবিষ্যৎ ও মাতৃস্নেহের প্রশ্নটি সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।