মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিভ্রান্তিকারীদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি সোমবার বিকালে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।
বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, ১৯৯৬ সালে স্বৈরাচারের সঙ্গে নিয়ে এবং ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের ভূত বিরোধী দলের ঘাড়ে চেপেছে, এবং তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।
বিগত ১৬ বছরের সমালোচনা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে এবং লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সঙ্গে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসে গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, এবং সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশটাকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে, এবং স্বল্প খরচে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা অচিরেই সুখবর আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জনসভার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচি
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি সেখানে বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং নিজের গড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি বাগবাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন, যা স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



