মেহেরপুরে বিএনপি নেতার ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ নেতা আটক
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনের ওপর গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভোরে সড়কে হামলার ঘটনা
এর আগে আজ ভোরে উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের সাহারবাটি-ভাটপাড়া সড়কে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। মুকুল হোসেন সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি। তাঁকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তির নাম টোকন বিশ্বাস। তিনি সাহারবাটি গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই সড়কের পাশের বাসিন্দা শামসুন্নাহার বলেন, ‘হামলার সময়টি ছিল ভোর। ফজরের নামাজ পড়ে মুসল্লিরা তখন বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি মুকুল সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। তখনো চারপাশ নির্জন ছিল।’
শামসুন্নাহার আরও জানান, তাঁর চিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং মুকুলকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত নেতার অবস্থা ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
মুকুলের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন, ‘বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা তাঁকে নিয়ে এখন ঢাকায় যাচ্ছি। যাঁরা গুলি করেছে, তাঁদের কয়েকজনের নাম পুলিশকে জানিয়েছেন বাবা।’
এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে জানিয়ে সাহারবাটি গ্রামের বাসিন্দা মাসুম মিয়া বলেন, এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামিনুর রহমান খান বলেন, ওই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনের চিকিৎসা চলছে, এবং আটক আওয়ামী লীগ নেতা টোকন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



