তারেক রহমান: বিনয়ী ও নিরহঙ্কারী নেতার স্মৃতিচারণ
তারেক রহমান: বিনয়ী ও নিরহঙ্কারী নেতার স্মৃতিচারণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী, নিরহঙ্কারী ও সজ্জন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী। তারেক রহমানের সঙ্গে ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লন্ডনে এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে ঢাকায় সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রথম সাক্ষাতে মুগ্ধতা

প্রথম সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের বিনয় ও আন্তরিকতা তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। রাজনীতি ও কর্মব্যস্ততার মাঝেও তিনি প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। কথোপকথনে আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং মানুষের অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট ছিল।

লন্ডনে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা

লন্ডনে যতবার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে, প্রতিবারই তার আচরণে সৌজন্যবোধ ও স্থিরতা লক্ষ্য করেছেন লেখক। তিনি ছোট-বড় সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন। একজন নেতার প্রকৃত পরিচয় শুধু বক্তব্যে নয়, মানুষের সঙ্গে আচরণে প্রকাশ পায়—এই সত্যটি তিনি তারেক রহমানের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পারিবারিক ঐতিহ্য ও বিনয়

তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। এই বিশাল ব্যক্তিত্বদের সন্তান হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকারবোধ নেই। লেখক হলফ করে বলেছেন যে তারেক রহমানের বিনয়ী কথাবার্তায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

নির্বাচনী সময়ে দৃঢ়তা

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকায় সাক্ষাতে দেশ ও জনগণ নিয়ে তারেক রহমানের ভাবনা দেখে ভালো লেগেছে। মানুষের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তিনি আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। নির্বাচনের পরদিনও তার মধ্যে একই ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতা লক্ষ্য করেছেন লেখক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক পটভূমি

লেখক উল্লেখ করেছেন যে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে তারেক রহমানকে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রায় ১৭ বছর লন্ডন প্রবাসে থেকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় ফ্যাসিস্ট সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে।

জুলাই আন্দোলন ও প্রত্যাবর্তন

জুলাই আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মী ও ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমান মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন এবং মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি তাকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে।

বর্তমান সরকারের কার্যক্রম

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। গত ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে তিনি অসহায়, দুস্থ ও কৃষক পরিবারের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করছেন।

কৃষি ও উন্নয়ন

প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বদ্ধপরিকর। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত 'খাল খনন কর্মসূচি' পুনরায় চালু করেছেন, যা কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

জনপ্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ

দেশের মানুষ এখন তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছেন। জনপ্রত্যাশা হলো, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তার নেতৃত্বে সরকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক সরকার, দেশ ও জাতির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।