ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে চার যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামুড়া বাক এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর যানজট ও উদ্ধার কার্যক্রম
দুর্ঘটনার পর বৈশামুড়া এলাকায় লোকজনের ভিড় তৈরি হয়। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট দেখা দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সেখানে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছিল। পরে বেলা দুইটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার পরপর ফায়ার সার্ভিসের সরাইল ইউনিট ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা লাশ নিজ জিম্মায় বাড়িতে নিয়ে যান।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের নাম–পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আরশ আলী (৬৫) ও তাঁর মেয়ের দিকের নাতি আলিফ মিয়া (৭)। এ ছাড়া আলিফের দুই ভাই তাজিম (২), আজমাইন (৯) ও মা রিকতা আক্তার (৪০) আহত হয়েছেন। তাঁদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
দুর্ঘটনার কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডাগামীর দিকে যাচ্ছিল দিগন্ত পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। পথে বৈশামুড়া বাক এলাকায় পৌঁছে এটি পণ্যবাহী একটি ট্রাককে অতিক্রম করে। এ সময় অতিরিক্ত গতির বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান বাসের চার যাত্রী।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যান বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) রেজাউল করিম। তিনি আজ বেলা দুইটার দিকে বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। খাদে পড়া বাসটি উদ্ধারে প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



